মার্চ ১০, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এই মহড়াকে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ধ্বংসের প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-এর মাধ্যমে মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ওয়াশিংটন ও সিউলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে শত্রুপক্ষের এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পিয়ংইয়ংয়ের সার্বভৌমত্বের জন্য অকল্পনীয় ও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
গত সোমবার থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ফ্রিডম শিল্ড শুরু করেছে। ১০ দিনব্যাপী এই মহড়ায় দুই দেশের প্রায় ১৮ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো জোটের সামরিক প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা এবং সমসাময়িক অপারেশনাল পরিবেশ উন্নত করা। তবে পিয়ংইয়ং এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে মহড়াটিকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে শত্রুদের উচিত হবে না উত্তর কোরিয়ার ধৈর্য ও সক্ষমতাকে পরীক্ষা করা।
তিনি স্পষ্ট করে জানান যে শত্রুপক্ষ কী উদ্দেশ্যে এই মহড়া চালাচ্ছে তা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।এবারের ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় ২২টি ফিল্ড ট্রেনিং ড্রিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে কিম ইয়ো জংয়ের এবারের বক্তব্য আগের তুলনায় কিছুটা সংযত। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে মঙ্গলবারের এই বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রকাশ্য হুমকিও দেওয়া হয়নি।
তাসত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে উসকানিমূলক মনে করছে। এর আগে কিম জং উন ২০২৪ সালে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবেন না যা এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার সংকেত দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এই মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন