সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে মোট চারটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান নামক মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এই হামলায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

পেন্টাগন এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, কুয়েতে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরবে আগে চালানো ইরানের অন্য একটি হামলায় গুরুতর আহত এক সেনা সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্যানুসারে, গত ১০ দিনে এই অঞ্চলে ইরানের বিভিন্ন হামলায় তাদের অন্তত ১৪০ জন সেনা আহত হয়েছেন। 

এই পরিস্থিতিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তারা পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।এদিকে কেবল আইআরজিসি নয়, ইরানপন্থি অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও মার্কিন স্বার্থে হামলা জোরদার করেছে। ইরানপন্থি মিলিশিয়া গ্রুপ ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা গত ১২ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় মোট ২৯১টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে তাদের দাবি। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং রণক্ষেত্রের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংঘাতের এই চরম পর্যায়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক এই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুয়েতের এই সরাসরি আক্রমণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।