সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানে মোজতবা খামেনির নিয়োগকে সমর্থন উত্তর কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

ইরানে মোজতবা খামেনির নিয়োগকে সমর্থন উত্তর কোরিয়ার

কিম জং উন ও মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে পিয়ংইয়ং সম্মান জানায়। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের জনগণ তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের যে সার্বভৌম অধিকার চর্চা করেছে, তার প্রতি উত্তর কোরিয়ার পূর্ণ সংহতি রয়েছে।

বিবৃতিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পিয়ংইয়ং এই হামলাকে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। উত্তর কোরিয়ার মতে, এ ধরনের আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

তারা মনে করে, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে পুরো বিশ্বের ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন পিয়ংইয়ংয়ের মুখপাত্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার পুত্র মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। এই পটভূমিতে পিয়ংইয়ংয়ের এই সমর্থন তেহরানের নতুন নেতৃত্বের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তির প্রদর্শনী অব্যাহত রয়েছে। 

কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন সম্প্রতি নতুন নৌ-ডেস্ট্রয়ার চোয়ে হিয়ন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেছেন। পরীক্ষা শেষে কিম জং উন বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখা এবং তা সম্প্রসারণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দায়িত্ব। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, তবেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন সম্ভব।