সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক লিটার তেলও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

এক লিটার তেলও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে না ইরান

ইরানের হুঁশিয়ারি ও হরমুজ

ইরানের সেনাবাহিনী এক চরম হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রশক্তির মালিকানাধীন কোনো জাহাজকে এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। 

ইরানের কেন্দ্রীয় অপারেশনাল কমান্ড ‘খতম আল-আনবিয়া’ এই বার্তাটি প্রচার করে যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে যেসব তেলের ট্যাঙ্কার বা মালবাহী জাহাজের মালিকানা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা জায়োনিস্ট শাসনব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের হাতে রয়েছে, সেগুলোকে ইরানের সামরিক বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। 

এমনকি তাদের সহযোগী দেশগুলোর জাহাজগুলোকেও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী আরও কঠোর ভাষায় নিশ্চিত করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে আর এক লিটার তেলও শত্রু দেশগুলোর স্বার্থে চলাচল করতে দেবে না। এই অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথটি ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে এই পথটি বন্ধ হলে এশিয়ার দেশগুলোতে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানের এই অবস্থানের বিপরীতে পশ্চিমা দেশগুলো কী ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা