মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:০১ এএম
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ঘোষণা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা অস্থিরতা এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলটি একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
পেজেশকিয়ান তার দাবির প্রথম শর্ত হিসেবে তেহরানের ন্যায্য অধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও সার্বভৌম অধিকারগুলো যথাযথভাবে স্বীকৃত হলে উত্তজনা অনেকাংশে প্রশমিত হতে পারে।
দ্বিতীয় শর্তে তিনি যুদ্ধের ফলে ইরানের যে বিভিন্নমুখী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি তুলেছেন। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যা পূরণ করা আবশ্যক। সবশেষে ভবিষ্যতে ইরান বা ইরানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর আর কোনো হামলা হবে না—আন্তর্জাতিক মহল থেকে এমন একটি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদানের কথা বলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনড় অবস্থান মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি বিশেষ কৌশল। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ক্রমাগত আঘাত হানা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের দেওয়া শর্তগুলো কতটুকু বাস্তবসম্মত বা পশ্চিমা দেশগুলো এতে কীভাবে সাড়া দেবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দীর্ঘক্ষণ কাজ করছে, তবে ইরানের এই নতুন অবস্থান আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন