মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এই রেজল্যুশন গৃহীত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি রাষ্ট্র এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং বাকি দুটি রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল।
এই প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং এটি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধে ইরানকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে জাতিসংঘ।
এই প্রস্তাব পাসের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরদিন থেকেই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ইরানে অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামে পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান এই প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক মহলে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রেজল্যুশনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে। তবে মূলত ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদে এই সংখ্যাধিক্য ভোটে প্রস্তাব পাস হওয়ায় ইরান আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে। সংঘাত কবলিত দেশগুলো এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও তেহরান এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা কতটুকু প্রশমিত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন