রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের হামলায় কাঁপল সৌদি-কাতার-কুয়েত-বাহরাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

ইরানের হামলায় কাঁপল সৌদি-কাতার-কুয়েত-বাহরাইন

চার দেশে ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন আরও বিস্তৃত হয়ে চার উপসাগরীয় দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার তীব্র পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান একযোগে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলার ফলে দেশগুলোর বিভিন্ন প্রান্তে উচ্চশব্দে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয় যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। 

বিশেষ করে কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে রাজধানী রিয়াদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। 

তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় পড়ে কিছু আগুনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে। 

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের সামরিক বাহিনী যেকোনো ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এদিকে কাতারের জন্য এই হামলা বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কাতারএনার্জি এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে জরুরি উদ্ধারকারী দলের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। 

ইরান এই হামলার আগে ওই সব অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনা সংলগ্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল যা থেকে বোঝা যায় তেহরান পরিকল্পিতভাবেই এই অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।কুয়েত ও বাহরাইনেও এই হামলার প্রভাব ছিল ব্যাপক। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের আকাশসীমায় ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার তথ্য রেকর্ড করেছে। চলমান এই উত্তেজনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৪২১টি এ ধরনের হামলা প্রতিরোধের ঘটনা ঘটেছে যা নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। 

অন্যদিকে বাহরাইন সরকার তাদের নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং সাইরেন বাজার সাথে সাথে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কাতার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।