এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝেই এবার এশীয় জলসীমায় নিজেদের শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে চীন। দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করতে নতুন করে নৌ-অবরোধ ও নজরদারি জোরদার করেছে বেইজিং। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে চীন কৌশলগতভাবে বেশ কিছু জাহাজ মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি সাগরের ভেতরে প্রবেশ ঠেকাতে শক্তিশালী ভাসমান ব্যারিয়ার বা বাধা বসানো হয়েছে।
গত ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা ছবিতে দেখা যায়, শোলের প্রবেশপথ আগলে চারটি চীনা মাছ ধরার নৌকা এবং একটি কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। এর পাশেই একটি দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধকতা বসিয়ে ওই জলপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।
চীনের এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে মাছ ধরতে যাওয়া ফিলিপাইনের জেলেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজের উপস্থিতির কারণে ফিলিপাইনের জেলেরা নিজেদের ঐতিহ্যগত মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে ফিলিপাইন কোস্টগার্ড ও মৎস্যজীবী সহায়তা জাহাজও ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে চীন প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা স্থাপন করেছে। ১০ ও ১১ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, শোলের ভেতরে ও বাইরে চীনের অন্তত ৯টি সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ পাহারায় রয়েছে। ফিলিপাইনে এই এলাকাটি ‘বাহো দে মাসিনলোক’ নামে পরিচিত হলেও চীন একে তাদের ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ বলে দাবি করে আসছে।
মূলত ২০১২ সালে এক রক্তপাতহীন অচলাবস্থার পর থেকে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে রয়েছে।আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা বেইজিংকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ওই অঞ্চলে ম্যানিলা ও ওয়াশিংটন যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছিল।
ফিলিপাইনের বর্তমান ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিমের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করায় বেইজিং এই অবরোধের মাধ্যমে পাল্টাহুমকি দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত ওই অঞ্চলে চীনের দাবিকে অবৈধ বললেও বেইজিং বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে এই নৌ-অবরোধের ফলে দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন