রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অবরোধ প্রত্যাহার করলে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০২:২১ পিএম

অবরোধ প্রত্যাহার করলে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবে ইরান

ইরানি রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলমান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে পুনরায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের পরবর্তী দফার কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। 

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি সম্প্রতি ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির এমন অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইরান সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায়। তবে এই আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। ওয়াশিংটন যদি বর্তমান নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবেই ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনার দ্বার উন্মোচিত হবে। 

রাষ্ট্রদূত ইরাভানি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বন্ধ করতে হবে। তেহরানের মতে, শর্তহীন এবং সম্মানজনক আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। 

রাষ্ট্রদূত ইরাভানি তাঁর বক্তব্যে এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক সমাধান চায় তবে ইরান যেমন প্রস্তুত, ঠিক তেমনি তারা যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয় তবে ইরান সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্যও তৈরি আছে।ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই আলোচনার প্রস্তাবটি মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার দিকেও ইঙ্গিত করছে। ইরান বরাবরই প্রতিবেশী দেশগুলোতে তৃতীয় কোনো পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। 

তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শর্তযুক্ত আলোচনার প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বৈশ্বিক কূটনীতিতে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য আলোচনা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে কি না, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে। তেহরানের এই কঠোর কিন্তু আলোচনার পক্ষপাতি অবস্থানটি বর্তমান সংকটের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।