রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্তে গাজায় চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ৩১, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্তে গাজায় চুক্তি

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইসরাইলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং গাজা উপত্যকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছাল দুই পক্ষ।

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইল ও গোষ্ঠীটির মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির পথে অন্যতম প্রধান জটিল বিষয় ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রতিদিনই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং ইসরাইলি বাহিনী হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, অস্ত্রের বিষয় এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।

এখন হামাস আশা করছে, মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বোর্ড অব পিস চুক্তির শর্তগুলো ইসরাইল সঠিকভাবে মেনে চলছে কি না তা নিশ্চিত করবে। হামাসের আলোচনাকারী দলের সদস্য গাজি হামাদ জানিয়েছেন, গাজাবাসীকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সংগঠনটি জনগণের স্বার্থে এই ছাড় দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, হামাসের অস্ত্রের বিষয়টি সেনা প্রত্যাহার, জাতীয় কমিটির মোতায়েন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ায় ইসরাইল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না এবং এই কাজটি জাতীয় কমিটি পরিচালনা করবে। গাজা প্রশাসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অস্ত্রের তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। গাজায় অস্ত্র সংরক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হবে এই জাতীয় কমিটি।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এই চুক্তিতে যুদ্ধের অবসান, গাজায় জাতীয় কমিটির প্রবেশ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং তা কার্যকর করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।