জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
গুম করে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম অর্থাৎ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
এখানে মামলার দীর্ঘ শুনানির প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা তাকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
তাদের দাবি ছিল প্রসিকিউশন জিয়াউলের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। তবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম পাল্টা যুক্তিতে বলেন যে আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে রয়েছে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ এই ঐতিহাসিক বিচার শুরুর আদেশ দেন যা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন প্রধানত তিনটি ভয়াবহ ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে ২০১১ সালে র্যাব সদর দপ্তর থেকে তিনজন বন্দিকে নিয়ে গাজীপুরের ঢাকা বাইপাস সড়কে নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছিলেন জিয়াউল ও তার দল। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে বরগুনার পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীকে এক ভয়াবহ ‘হটস্পট’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানে গভীর রাতে বন্দিদের পেটে পাথর বা সিমেন্টের ব্লক বেঁধে এবং পেটে ছিদ্র করে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই গোপন অপারেশনগুলো ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোড নামে পরিচালিত হতো যেখানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তৃতীয় অভিযোগটি আরও লোমহর্ষক যেখানে বলা হয়েছে সুন্দরবন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে গুম থাকা ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে নাটকীয় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সাজানো হতো। জিয়াউল আহসান নিজে এসব অভিযানে উপস্থিত থাকতেন এবং অপারেশন নিশানখালী বা মরা ভোলার মতো অভিযানে আরও অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রসিকিউশন এই হত্যাযজ্ঞগুলোকে সুপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখন ৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের আলোচিত এই সেনাকর্মকর্তার বিচারিক কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন