জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তি উপস্থাপন বা আর্গুমেন্ট শুরু করার দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে বিভিন্ন আইনজীবী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য যে আবু সাঈদ হত্যার এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেয়। বর্তমানে এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলসহ মোট ৬ জন আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ।
নিরস্ত্র অবস্থায় দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের বন্দুকের সামনে তার বুক পেতে দেওয়ার সেই ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয় যা পরবর্তীকালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। আবু সাঈদ হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছেন শহীদ সাঈদের পরিবার ও সাধারণ ছাত্র জনতা। এই মামলার রায়ের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন