জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছেন।
এর ফলে যেকোনো দিন ঘোষিত হতে পারে ঐতিহাসিক এই মামলার রায় যা জুলাই বিপ্লবের পর প্রথম বড় কোনো বিচারিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে।এর আগে গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সামনে সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার জব্দ করা আলামত এবং নথিপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন।
প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে যে তারা ট্রাইব্যুনালে যেসব তথ্য ও ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তাতে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং অপরাধের ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরার কাজ শেষ হওয়ার পর বিচারকগণ আজ রায় ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।এই মামলায় অভিযুক্ত মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন এএসআই আমির হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতর্কিত প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং তিনজন ছাত্রলীগ নেতা।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক এসব আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী। গত ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছিলেন। এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে ট্রাইব্যুনালের দিকে যে বীর শহীদ আবু সাঈদের রক্তের ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন