আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশসংক্রান্ত বেশ কিছু ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে এই কথোপকথনের নতুন কল রেকর্ডগুলো ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলো সামনে আসে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে গত চার আগস্ট এই মামলায় আনুষ্ঠানিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় এবং ছয় আগস্ট দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ নতুন এই ফোনালাপগুলো ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। শুনানিতে প্রকাশিত রেকর্ডগুলোতে আন্দোলন দমনে চরম দমনপীড়নের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী, ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীর করে দেওয়ার জন্য সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কথোপকথনে পলককে ইন্টারনেট স্লো করে দিতে বললে তিনি নেত্রীর অনুমতি নেওয়ার কথা জানান এবং কাদের তাকে সেভাবে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের সংবাদ প্রচার বন্ধ করতে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকেও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়।রাষ্ট্রপক্ষের এই যুক্তিতর্ক ও দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন