সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৬:৫৭ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের অবস্থান ড্রোনের মাধ্যমে চিহ্নিত করে হেলিকপ্টার থেকে 'ছত্রীসেনা' ব্যবহার করে বোম্বিং ও গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার ৪টি ফোনকলের রেকর্ড বাজিয়ে শোনানো হয়।
এই ফোনকলগুলোতে শেখ হাসিনার সঙ্গে তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নুর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মাকসুদ কামাল এবং জাসদের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কথোপকথন ছিল।মারণাস্ত্রের ব্যবহার: আন্দোলনে 'লেথাল উইপেন' (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া
-
আন্দোলনকারী দমন: আন্দোলনকারীদের তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তার করা, 'রাজাকার' ট্যাগ দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলানো বা মেরে ফেলার নির্দেশ।
-
আকাশ থেকে আক্রমণ: ছত্রীসেনা ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে বোম্বিং করা এবং গুলিবর্ষণ করা।
-
তথ্য নিয়ন্ত্রণ: ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া।
-
অপপ্রচার: সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানো এবং তাদের 'জঙ্গি' হিসেবে প্রচার করা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন এই মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা। তিনি এই মামলার ৫২তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
তানভীর জোহা তার জবানবন্দিতে জানান, তিনি বিটিআরসি, এনটিএমসি, ডিএমপিসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে অডিও ক্লিপ, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে শেখ হাসিনার মোট ৬৯টি কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে, যেখানে তিনি আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
এই ফোনালাপগুলোতে স্পষ্ট করে মারণাস্ত্র ব্যবহারের এবং যেখানেই আন্দোলনকারীদের পাওয়া যাবে সেখানেই গুলি করার নির্দেশ দিতে শোনা যায়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন