সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৮:৪২ পিএম
গত বছর সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন (জুলাই অভ্যুত্থান) দমনে পুলিশ সারাদেশে ৩ লাখ ৫ হাজার ১১ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল। এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ব্যবহৃত হয়েছিল ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের ৫৪তম ও সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি হয়। শুনানি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তার তদন্তকালে তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি সংক্রান্ত ২২৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন পান।
প্রতিবেদনের তথ্য:
-
এলএনজি, চাইনিজ রাইফেল, শর্টগান, রিভলবার, পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
-
সারাদেশে ৩,০৫,০১১ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল।
-
শুধু ঢাকা শহরে ব্যবহার করা হয়েছিল ৯৫,৩১৩ রাউন্ড গুলি।
তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দিতে বলেন, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন—তারা তিনজনই গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে আন্দোলন দমনে শান্তিপূর্ণ ছাত্রজনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এছাড়াও তদন্ত কর্মকর্তা আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছেন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি র্যাব সদর দপ্তর থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং ৮১টি অজ্ঞাতপরিচয় লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও সংগ্রহ করেছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন