শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,
সম্পর্কের মনস্তত্ত্ব

বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণ ও মনস্তত্ত্ব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণ ও মনস্তত্ত্ব

প্রেমের সম্পর্কের ইতি টানার পরও অনেকের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয় না। প্রতিদিনের দীর্ঘ আলাপ, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর গভীর আবেগের বিচ্ছেদ ঘটার পরও মাঝেমধ্যে খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে থাকা কিংবা যোগাযোগ জারি রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় অনেকের মধ্যেই। ভালোবাসা শেষ হলেও বন্ধুত্ব কেন টিকে থাকে, মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে এর কোনো একক বা সরল ব্যাখ্যা নেই। সম্পর্কের অবসান ঘটার পরেও পরিচিতির টান, মানসিক নির্ভরতা, প্রাত্যহিক প্রয়োজন কিংবা অসম্পূর্ণ আবেগের সমীকরণে এমন জটিল সমীকরণ গড়ে ওঠে।

কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সমীক্ষার ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, কেউ মানসিক নির্ভরতার খোঁজে, কেউ বাস্তব প্রয়োজনে, আবার কেউ পুরনো অনুভূতির টানেই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখেন।

দীর্ঘদিনের সম্পর্কে দুজনের ভেতর এক ধরণের বোঝাপড়া ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য গড়ে ওঠে। আনন্দ কিংবা বিষাদের মুহূর্তে সাবেক সঙ্গী সহজেই মনের অবস্থা অনুধাবন করতে পারেন বলে তার সঙ্গে কথা বললে অচেনা কারও তুলনায় বেশি নিরাপত্তা মেলে। রোমান্টিক সম্পর্ক ভেঙে গেলেও এই মানসিক নিরাপত্তার অনুভূতি রাতারাতি মুছে ফেলা সম্ভব হয় না। উভয় পক্ষ যদি সম্পর্কের সুস্থ সীমারেখা মেনে চলতে পারেন, তবে এই ধরণের বন্ধুত্ব স্বাভাবিকভাবেই কার্যকর থাকে।

সব বন্ধুত্বের পেছনে কেবল অতীত অনুভূতি দায়ী থাকে না। কর্মক্ষেত্র এক হওয়া, একই বন্ধু মহলে যাতায়াত কিংবা যৌথ সামাজিক অবস্থান থাকলে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সন্তানের যৌথ প্রতিপালন, পোষা প্রাণীর দায়িত্ব ভাগাভাগি বা যৌথ আর্থিক লেনদেনের মতো দায়িত্বের কারণেও যোগাযোগ রক্ষা করা বাস্তব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সম্পর্ককে প্রেমের রেশ হিসেবে না দেখে বাস্তব জীবনের বাধ্যবাধকতা হিসেবেই মূল্যায়ন করা যুক্তিযুক্ত।

বিচ্ছেদ মানেই যে তিক্ততা বা শত্রুতা, তা নয়। সামাজিক পরিমণ্ডলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো কিংবা পুরনো সহযোগীকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন করে আঘাত না দেওয়ার ইচ্ছা থেকেও অনেকে যোগাযোগ রাখেন। তবে এই ধরণের সম্পর্ক অনেক সময় গভীর বন্ধুত্বে রূপ না নিয়ে স্রেফ স্বাভাবিক সামাজিক সৌজন্য হিসেবে সীমিত থাকে।

বন্ধুত্বের অন্তরালে কখনো অপূর্ণ বাসনাও সুপ্ত থাকতে পারে। একজন হয়তো সম্পর্ক চুকিয়ে নতুন জীবনে অগ্রসর হতে চাইছেন, কিন্তু অপরজন এখনও মিলনের আশা বাঁচিয়ে রাখছেন। আবার সাবেক সঙ্গীর নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানো সহজভাবে মেনে নিতে না পারার মানসিকতা থেকেও বন্ধুত্বের ছদ্মাবরণে যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা দেখা যায়। দুজনের প্রত্যাশার মাঝে গরমিল তৈরি হলে এই ধরণের বন্ধন পারস্পরিক জটিলতা বাড়ায়।

বিচ্ছেদের পর যোগাযোগ ধরে রাখা সবসময় ক্ষতিকর নয়। কোনো কোনো বিচ্ছেদ তিক্ততামুক্ত হয় এবং সময়ের ব্যবধানে প্রেমের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিখাদ বন্ধুত্ব স্থান করে নেয়। সাইকোলজি টুডের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের অন্তত একজন সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ একাধিক সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে চলছেন। তবে এই যোগাযোগ উভয় পক্ষের জন্য কতটা স্পষ্ট, সম্মানজনক এবং মানসিক স্বস্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেটিই এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করে।