নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক গবেষণায় ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ভূমিকম্প বিষয়ক আলোচনা সভায় রাজউকের এই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, নরসিংদীর মধুপুর ফল্টে যদি প্রায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে দিনের বেলায় রাজধানীতে ৮ লাখ ৬৫ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে।
এমনটি হলে ঢাকায় প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে সিলেট ফল্টের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে বলেও গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ছয় মাত্রার কম একটি ভূকম্পনেও যখন রাজধানীসহ সারা দেশের ভবনগুলো দীর্ঘক্ষণ ধরে দুলতে থাকে এবং সারা দেশে অন্তত দশজনের প্রাণহানি ঘটে, তখন থেকেই ঢাকার সম্ভাব্য বিপর্যয়ের শঙ্কা আবারও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা আর বসে থাকার সুযোগ নেই বলে জোর দিয়েছেন। বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, নির্মাণ তত্ত্বাবধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটিতে রাজউকের পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র সরঞ্জাম দিলেই এই সক্ষমতা বাড়বে না।
বরং তৃতীয় কোনো বেসরকারি সংস্থাকে এই কাজে যুক্ত করে ভবন নিরীক্ষা করানো উচিত এবং প্রতি তলায় তলায় পরীক্ষা শেষে ভবনকে সার্টিফিকেট দেওয়া প্রয়োজন।পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও বুয়েট বিশেষজ্ঞের মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে ভবন নিরীক্ষায় বেসরকারি কোম্পানিকে যুক্ত করার জন্য বিশেষ আদেশ জারির পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি পুরান ঢাকার সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করার তাগিদ দেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, বড় কিছু ঘটার একটি বার্তা ইতোমধ্যে এসেছে, তাই প্রস্তুত থাকার জন্য সবাইকে রাজউক এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহায়তা করতে হবে। তার মতে, রাজউকের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, ডেসা ও গ্যাসের মতো পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং প্রতিটি এলাকায় কিছু স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে, যারা দুর্যোগের সময় গ্যাসের লাইন বন্ধ করাসহ জরুরি কাজগুলো করতে পারবে।
এদিকে, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাস্ট গঠনের কাজ চলছে এবং জনগণের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে দেশের মানুষ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আলোচনা সভায় রাজউক চেয়ারম্যান জানান, নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিতে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলার কাজ চলছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন