রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বেগম রোকেয়া দিবস আজ স্মরণ করা হচ্ছে মহীয়সী নারীর অবদান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১০:১২ এএম

বেগম রোকেয়া দিবস আজ স্মরণ করা হচ্ছে মহীয়সী নারীর অবদান

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এই মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালের একই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বাঙালি সমাজে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের জন্য তাঁর অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতেই দিবসটি প্রতি বছর সরকারিভাবে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।

খ্যাতিমান সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজসংস্কারক বেগম রোকেয়া বিশ শতকে মুক্তচিন্তা, ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং শানিত লেখনীর মধ্য দিয়ে এক বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় দেশি-বিদেশি লেখকদের লেখার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। ১৯০২ সালে 'পিপাসা' নামে একটি বাংলা গল্প লিখে তিনি সাহিত্য জগতে সুনাম কুড়ান। এরপর একে একে তিনি লেখেন কালজয়ী প্রবন্ধগ্রন্থ 'মতিচূর' এবং নারীবাদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনি 'সুলতানার স্বপ্ন' এর মতো রচনা। লেখনীর মাধ্যমে নারী সমাজের প্রতি তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন।

বেগম রোকেয়া কেবল লেখনিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং শিক্ষাবিস্তার ও সমাজ পরিবর্তনে তিনি সরাসরি উদ্যোগ নেন। নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার লক্ষ্যে ১৯০৯ সালে মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরে তিনি 'সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' স্থাপন করেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অধিকার ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অনন্য অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে 'বেগম রোকেয়া পদক' প্রদান করা হয়। এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশের নারী সমাজের অগ্রগতিকে আরও বেগবান করা।