জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ফুটেজ সরাসরি মনিটর করা হবে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনের বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এর জবাবে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কোনো গোজামিলের নির্বাচন হবে না।’ তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় বিরোধ নিরসনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে যেখানে নাগরিকরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার বিষয়ে কোনো আইনি বাধা নেই। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের মূল দায়িত্বই হলো সংস্কারের পক্ষে থাকা। জামায়াত নেতারা জানান, তারা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন এবং একই সঙ্গে গণভোটের প্রচারণাও চালিয়ে যাবেন। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জয়-পরাজয় নির্বিশেষে সব দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন