রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৩৭৫৬৭ নারী পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড: উদ্বোধন কাল

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

৩৭৫৬৭ নারী পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড: উদ্বোধন কাল

ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন নারীরা

সারাদেশে নারী প্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

 তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারের নারী প্রধানের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আরও সুসংহত হবে।আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। 

মন্ত্রী জানান, উপকারভোগী নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক মানের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করায় এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। 

সরকার শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে।পাইলটিং এই কর্মসূচির শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 

এর মধ্যে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্যাটাগরিতে থাকা প্রায় ৪৮ হাজার পরিবারের তথ্য সরেজমিনে যাচাই করা হয়। তথ্যের সত্যতা পাওয়ায় এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডাবল ডিপিং বা দ্বৈত সুবিধা গ্রহণকারী ও সরকারি চাকরিজীবীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সরকারের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ধাপে ধাপে দেশের সকল যোগ্য পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকেই নারীরা এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে এবং তৃণমূলের নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা।