মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা অব্যাহত থাকবে। তবে গবেষণার নামে বা মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস বা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ অবদানের অবমূল্যায়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, অতীতকে ভুলে থাকা যেমন অনুচিত, তেমনি অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকাও ঠিক নয় যা ভবিষ্যতের সমৃদ্ধি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ জাতীয় পর্যায়ের সকল বীর নেতৃবৃন্দকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশপ্রেমিক জনগণের অনন্য অবদানেই আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণিত সেই ঐতিহাসিক দলিলটি বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।তারেক রহমান তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনো দলের একক অর্জন নয়, বরং এটি ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও যদি সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, তবে একটি স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব কিছু নয়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত সমাজের কেবল একটি অংশ নয় বরং সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি আদর্শ ও সুখী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন