রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর দেশে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর দেশে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ সরকারের

দেশে আসছে পেপ্যাল

বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্রিল্যান্সিং খাতের উন্নয়নে আগামী ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে সরকারি আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার তরুণকে উচ্চ প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্কসহ আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর লক্ষে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে ১ হাজার নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ হাজার ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তি খাতের এই জনবলকে বিশ্ববাজারের জন্য দক্ষ করে তোলা।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বর্তমানে ৮৩টি সেবা অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী এক বছরে এর সঙ্গে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমেও আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার গ্র্যাজুয়েটকে আইটিইই (ITEE) প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও ৫ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থীকে পাইথন প্রোগ্রামিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডাটা অ্যানালাইটিক্সের মতো বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স করানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রযুক্তি খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার কাজ চলছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াইফাই (WIFI) প্রকল্পের আওতায় ৭০০ জন নারীকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এপ্রিল ২০২৬ সেশনেও দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ধরনের উচ্চতর কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পেপ্যাল চালু এবং ফ্রিল্যান্সারদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটবে।