মে ৩১, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন কাঠামোটি কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে। নতুন এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে শুধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতনই নয়, বরং বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বিশেষ করে মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।নতুন পে-স্কেলে চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু নতুন সুবিধাও যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
নবম জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রথম গ্রেড থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান পুরো বেতন কাঠামোতেই একটি বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাম্প্রতিক সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই মূলত এই নতুন সুপারিশটি তৈরি করা হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবে প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতন সমানুপাতিক হারে বাড়ানোর কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।নতুন কাঠামোতে বিদ্যমান মোট ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে পে-কমিশন।এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা হতে পারে। একইভাবে দশম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
এর বাইরে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার থেকে ৯৯ হাজার এবং পঞ্চম গ্রেডের মূল বেতন ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের সামগ্রিক বেতন কাঠামোয় গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির দিকে দেশজুড়ে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

-20260531035956.jpg)
দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন