সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের জন্য সাধারণ প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য জারি করা হবে সাতটি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ বা এসআরও। এর পাশাপাশি সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অর্থাৎ আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণের জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনের খসড়া ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হলেই চূড়ান্ত আদেশ জারি হবে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে মূল বেতনকাঠামো সবার জন্য কার্যকর হলেও বিভিন্ন খাতের পদমর্যাদা, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পৃথক আদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মূলত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ধরন ও প্রশাসনিক কাঠামো এক না হওয়ায় এই ভিন্নতা আনা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও প্রশাসনিক বৈচিত্র্য রয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই পৃথক সাতটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই দ্রুততার সঙ্গে তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা সম্ভব হয়।
সাতটি পৃথক খাতের জন্য আলাদা প্রয়োগবিধি তৈরি করা হয়েছে। নতুন বেতন আদেশের প্রথম এসআরওটি জারি হবে বেসামরিক প্রশাসনের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। দ্বিতীয় আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বেতন, বিশেষ ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা। তৃতীয় আদেশটি কার্যকর হবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের জন্য এবং চতুর্থ এসআরওর অধীনে থাকবেন সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকবেন পঞ্চম আদেশের আওতায়। ষষ্ঠ এসআরও কার্যকর হবে যৌথবাহিনীর বিশেষ নির্দেশনার আলোকে সশস্ত্র বাহিনীর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের জন্য এবং সর্বশেষ সপ্তম আদেশটি হবে বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য।
বেতন নির্ধারণের পুরো পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে প্রবেশ করে নিজের পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে প্রবেশের তারিখ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেড এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। প্রদত্ত সমস্ত বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে নতুন কাঠামোর আলোকে স্বয়ক্রিয়ভাবে তাদের মূল বেতন ও প্রযোজ্য আর্থিক সুবিধা চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল, ঋণ, আয়কর ও পেনশনসহ নিয়মিত বেতন বিল সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হচ্ছে। নতুন পে স্কেলকে নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যমান ডিজিটাল পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর কারিগরি কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন