জুন ১৫, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের প্রায় ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামোগত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।সবচেয়ে বেশি নয়টি প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। বর্তমানে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ সংযোগকারী যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা ঈদের সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বিদ্যমান চার লেনের সেতুটিতে তখন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে সমীক্ষা চলছে।চীনা অর্থায়নের তালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ। এটি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের অনেক অপরিকল্পিত প্রকল্প নিয়েছিল, তবে বর্তমান সরকার অবকাঠামো ও সংযোগ সুবিধার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
সেতু বিভাগ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর উড়াল মহাসড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছে, যা বিদ্যমান চার লেনের মহাসড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা সাবওয়ে ও সাভার-নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাবও চীনের কাছে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্যে দ্বিতীয় মুক্তারপুর সেতু এবং পাবনা-রাজবাড়ীর মধ্যে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও এই তালিকার অংশ। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন