জুন ২০, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের সার্বিক মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভাসমান মজুতসহ দেশে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও আমদানি সচল থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রধান খাদ্যশস্য চালের একক মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এর পাশাপাশি গমের মজুত ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। ধানের এই পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। এর ফলে ভাসমান মজুত বাদে প্রকৃত মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন যার সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ঙেকশ বাষট্টি মেট্রিক টনের ভাসমান মজুত যুক্ত হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। গত ১৭ জুন পর্যন্ত সর্বমোট ۷ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এই ক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে অর্থাৎ ১০০:৬৫ অনুপাতে মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।
গত ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে দেশে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টির মতো। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে। অন্য দিকে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে যার সিংহভাগই চাল এবং গম রয়েছে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন।
চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি। শুধু গত ১৭ জুন তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম দেশে এসেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপ সচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান যে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে বর্তমানের এই মজুত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন জানান যে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন যে চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে। গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে যেখানে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন