জুলাই ২২, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার আইনি ও মৌলিক অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কেউ কখনো স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকবে না। সাধারণ মানুষের শারীরিক অবস্থার সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো মারাত্মক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে সরকার দেশব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এর অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই সারা দেশে হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং তথা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের লেক পার্কে হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে এই বিশেষ কার্যক্রম সফল করতে সরকার এক লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় আংশিক অর্থাৎ আশি শতাংশই নারী কর্মী হিসেবে নিযুক্ত হবেন।
এই নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যানসার পরীক্ষার প্রাথমিক পদ্ধতি শিখিয়ে দেবেন, যাতে শুরুতেই রোগ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে থাকা বিশেষ বাক্সের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস এবং লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ঘরে বসেই করার সুবিধা পাবেন। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।
পাশাপাশি বর্তমান সময়ে দেশে সিজারিয়ান সেকশন বা সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে অপ্রয়োজনীয় সিজারের কারণে নবজাতকরা প্রকৃতির সেরা উপহার শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের মারাত্মক পুষ্টিহীনতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মায়েদের কর্মব্যস্ততা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমে যাওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। গুলশান সোসাইটির সভাপতিসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন