রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাভার ও আশুলিয়ায় জুলাই অভ্যুত্থানের বিজয়ের দিনে নিহত হন ৩১ জন

জাতীয় ডেস্ক

আগস্ট ৫, ২০২৬, ১১:৫০ এএম

সাভার ও আশুলিয়ায় জুলাই অভ্যুত্থানের বিজয়ের দিনে নিহত হন ৩১ জন

ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের পাঁচ আগস্ট সাভার ও আশুলিয়ায় পুলিশ ও তৎকালীন সরকারের সহযোগীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ঘটেছিল এক মর্মান্তিক অধ্যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয়ের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শাসকদলের নেতাকর্মীদের হামলায় মোট একত্রিশ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন। হত্যাকাণ্ডের পর আশুলিয়া থানার সামনে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা বিশ্ববাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

সেদিনের সেই লংমার্চে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরে একটি বিশাল মিছিল ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করলে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের বাধা ও এলোপাতাড়ি গুলিতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। 

পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জনতা সাভার থানার দিকে অগ্রসর হলে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা ওই সংঘর্ষে অসংখ্য রাউন্ড গুলিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো শিল্পশহর।পরবর্তীতে আশুলিয়া থানা এলাকায় আরও বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং ভয়াবহ সেই সহিংসতার তথ্য বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিশ্চিত করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সম্প্রতি রায় ঘোষণা করেছে, যেখানে বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

দণ্ডিতদের মধ্যে অনেকে কারাগারে থাকলেও অনেকেই এখনো পলাতক রয়েছেন, যাদের গ্রেফতারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।শহীদ পরিবারের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দণ্ড কার্যকর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।স্বজনদের মতে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন হলেই কেবল তাদের আত্মা শান্তি পাবে।