আগস্ট ৮, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের একটি সমন্বিত, আধুনিক ও সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন যে ফ্যামিলি কার্ডকে কেবল সাধারণ একটি ভাতা কর্মসূচি হিসেবে না দেখে বরং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনার কথা তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন।আন্তর্জাতিক গ্রোথ সেন্টার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে উপদেষ্টা জানান যে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলের মেয়াদ শেষ হলেও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বর্তমানে একচল্লিশ লাখ পরিবারের জন্য চৌদ্দ হাজার কোটি টাকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকার এই ব্যয়কে কোনো সাধারণ খরচ হিসেবে না দেখে মানবসম্পদে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে এবং দীর্ঘদিনের ত্রুটি দূর করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় হালনাগাদ পদ্ধতি অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। ভবিষ্যতে পরিবারভিত্তিক সহায়তার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেও এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
আগামী বাজেট থেকেই একটি দক্ষ ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আহ্বান করেছেন তিনি।বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থার মধ্যে নির্ভুল তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর পারস্পরিক সমন্বয় এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি স্বচ্ছ সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো তৈরি সম্ভব বলে বৈঠকে মতপ্রকাশ করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন