শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সন্দ্বীপে ড্রেজিং না টেকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

সন্দ্বীপে ড্রেজিং না টেকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ড্রেজিং করার এক মাস পার না হতেই পুনরায় পলি জমে তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।

ভাটার সময় ঘাট সংলগ্ন এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় মূল ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নোঙর করতে হচ্ছে স্পিডবোট ও সার্ভিসবোটসহ বিভিন্ন নৌযান। ফলে দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীদের বিস্তীর্ণ কাদা ও কোমরসমান পানি ভেঙে নৌযানে পৌঁছাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়ছেন নারী, শিশু এবং অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি চিত্রে দেখা গেছে, ঘাট থেকে সার্ভিসবোট পর্যন্ত পুরো পথ কাদা ও পলিমাটিতে পূর্ণ এবং যাত্রীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে উঠছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন যাত্রী শেখ রুবেল। তিনি জানান, ভাটার সময় কোমরসমান কাদা-পানি পেরিয়ে নৌযানে উঠতে গিয়ে নারী ও শিশুদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা অত্যন্ত অমানবিক।

চার লাখ মানুষের এই দ্বীপে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এই নৌপথ ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘাটে প্রতিনিয়ত পলি জমার কারণে পানি কমে যাচ্ছে এবং যে ড্রেজিং করা হচ্ছে তা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। সমস্যাটির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় যাতায়াত সংকট দিনে দিনে জটিল আকার ধারণ করছে। তারা নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি নৌপথ পরিকল্পনার দাবি তুলেছেন।

আমরা সন্দ্বীপবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক খাদেমুল ইসলাম জানান, দ্বীপবাসীর যাতায়াতের এই প্রধান ঘাটে নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে এবং দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের ভোগান্তি দূর হবে না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রেজাউর রহমান খন্দকার জানান, ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও পলি জমার কারণে তা এক মাসও স্থায়ী হচ্ছে না। এর পাশাপাশি উত্তোলিত মাটি ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গার সংকট রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম ফেরিঘাট নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মেজর এস এম মাহমুদ জানান, স্থানীয় ছোট ছোট ড্রেজার ব্যবহারের মাধ্যমে সন্দ্বীপে নিয়মিত ড্রেজিং চালু রাখা সম্ভব এবং এতে সামগ্রিক খরচও অনেকাংশে কম হবে।