সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মাদরাসায় শিশু নির্যাতন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় আলেম সমাজের নীরব থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে অপরাধীর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় সরাসরি এক শ্রোতার প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজের ও আলেমদের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে এক শ্রোতা প্রশ্ন করেন যে মাদরাসা শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় আলেমদের জোরালো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় না কেন। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ এই অভিযোগকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, সমাজে কোনো অন্যায় সংঘটিত হলে অপরাধীকে নির্দিষ্ট পেশা বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ে চিহ্নিত করে অপরাধের মাত্রাকে হালকা করে ফেলা হয়। ইতিপূর্বে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই ছয় দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছিলেন বলেও স্মরণ করিয়ে দেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে অপরাধের জন্য যে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে, তা অন্তত যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে স্বেচ্ছায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদের ওপর কার্যকর করা সম্ভব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্তৃপক্ষ কেন ধর্মীয় শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সেই কোরআনিক কঠোর বিধান প্রয়োগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে না। দেশে বিদ্যমান বিচারব্যবস্থার স্থবিরতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং ঔপনিবেশিক আমলের আইনি কাঠামোর কারণে অপরাধীদের অতি-সুবিধা দেওয়া হয় বলেও তিনি সমালোচনা করেন।
অভিযুক্তের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও অপরাধীকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া সমাজ থেকে অপরাধ দূর করার সমাধান নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে মাদ্রাসা বা সাধারণ স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক পরিচয়ের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। দেশের বিভিন্ন নামীদামি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে এলেও চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছাড়া খুব কম ক্ষেত্রেই দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখা যায়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো অপরাধী যদি মাদরাসার শিক্ষক বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হয়, তবে তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শাস্তি আরও কঠোর ও দৃশ্যমান করা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন কিংবা ধর্মীয় কঠোর বিধানের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে আলেম সমাজের পক্ষ থেকে কখনো বাধা দেওয়া হয়নি।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধ আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই। সিসি ক্যামেরা বা ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে খুব দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব। কোনো মাদরাসা শিক্ষকের অপরাধ প্রকাশ পেলে দেশের আলেমরা অপরাধীর পক্ষে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন এমন নজির নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অপরাধীকে পেশাগত পরিচয় দিয়ে বিভাজন তৈরি করা মূল অপরাধীকে পার পাইয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা।
ধর্মীয় লেবাস কোনো মানুষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পাপ করে তোলে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকেরাও রক্তমাংসের মানুষ এবং তাদের ভেতরেও ভুল বা স্খলন ঘটতে পারে। তাই পোশাকি রূপ না দেখে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই একমাত্র পথ।
তিনি বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, দেশে বহু চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর তীব্র দাবি উঠলেও কার্যকর শাস্তি প্রয়োগে অনীহা দেখা যায়। ফলে কার্যকর বিচার সংস্কারে নজর না দিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করা অত্যন্ত হতাশাজনক। ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে কেউ সমাজ বা ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি আলেম সমাজই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে করে থাকে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন