বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
জাতীয় বেতন স্কেল

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন দ্বিগুণ হলেও বাড়ি ভাড়ার হার কমছে

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন দ্বিগুণ হলেও বাড়ি ভাড়ার হার কমছে

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন ‍‍`জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬‍‍` এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে সরকার। অনুমোদিত নতুন এই কাঠামোতে সামরিক, বেসামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার সবার জন্য সমান রাখা হচ্ছে না। উচ্চপদে ইনক্রিমেন্টের হার কমিয়ে আনার কারণে গ্রেডভেদে যাদের বেতন বেশি, তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার তুলনামূলকভাবে কম নির্ধারিত হবে।

মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই বেতন কাঠামোর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে সার্বিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের বাস্তবতায় সমন্বয় করতে গিয়ে বাড়ি ভাড়া ভাতার শতকরা হার কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিলেও সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তা কমিয়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ম ও ৯ম গ্রেডে কমিশনের প্রস্তাবিত ১০৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির হার কমিয়ে সচিব কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী ১০০ শতাংশে নামানো হয়েছে, যদিও অন্যান্য গ্রেডগুলোতে কমিশনের মূল প্রস্তাব অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন বেতন স্কেলের আর্থিক বাস্তবায়ন কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের একটি নির্ধারিত অংশ কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সব ধরনের আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সামগ্রিক মূল্যায়নে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কমিশনের মূল প্রস্তাবে এই সমন্বয় করা হলেও কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

মূল বেতনের শতকরা হার কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিদ্যমান ২০১৫ সালের স্কেলে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারিত ছিল, যা নতুন স্কেলে কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় শতাংশ কমলেও কর্মচারীরা বাড়ি ভাড়া বাবদ আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাবেন। এছাড়া অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলার জন্য বাড়ি ভাড়ার বিদ্যমান হার ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। একইভাবে দেশের সকল সিটি করপোরেশন ও সাভার এলাকার বাইরে কর্মরতদের ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়ার হার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মে সব কর্মচারীর জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা এক হাজার ৫০০ টাকা এবং ৬৫ বছরের বেশি পেনশনভোগীদের জন্য দুই হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ ছিল। নতুন কাঠামোতে কর্মচারীদের বয়স বিবেচনায় নিয়ে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা তিন হাজার টাকা এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনভোগীরা প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা মাসে ছয় হাজার টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব স্তরের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাসিক মোবাইল ফোন ভাতা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূর্বে শুধু ১ম থেকে ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪র্থ ও ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা করে মোবাইল বিল পেতেন। নতুন কাঠামোতে ১ম থেকে ৫ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের এই ভাতা কমিয়ে মাসে ৫০০ টাকা করা হয়েছে, তবে ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাতেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে পরিবর্তন এনেছে সরকার। বিদ্যমান পে স্কেলের মাসিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হচ্ছে। কর্মচারীদের বর্তমান ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতার হার বিদ্যমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কর্মীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ পাহাড়ি ভাতা অপরিবর্তিত রাখা হলেও জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতা হিসেবেও মূল বেতনের ২০ শতাংশের হার বহাল রেখে এর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, বাবুর্চি ও নিরাপত্তা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার এবং পরিমাণ নতুন কাঠামোতেও সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।