সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতায় জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়া এবং দেশের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে সাময়িক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, তার জন্য দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন যে সংকট উত্তরণে সব ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটলে আগামীতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আর কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। রবিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান তিনি। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ জোড়া ধাক্কায় দেশের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে লাইনচ্যুত হয়েছিল। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ব্যাখ্যা করেন যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৈশ্বিক এই সংঘাতময় বাস্তবতায় তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত বিপর্যয়; বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনা সম্পন্ন হলেও দেশের উপকূলে থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড ঘটায় সংগৃহীত গ্যাস সময়মতো জাতীয় গ্রিডে খালাস করা সম্ভব হয়নি। সব ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করে আমদানিকৃত তরলীকৃত গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের মূল লাইনটি পুরোপুরি সচল করা হয়েছে। বর্তমানে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে জ্বালানির চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে। বৈশ্বিক যুদ্ধের অভিঘাতে এমন সাময়িক সরবরাহ সংকট বিশ্বের বহু উন্নত রাষ্ট্রেও দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ জনগণকে যে লোডশেডিং ও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে ব্যথিত ও দুঃখিত। জনগণের দেওয়া আস্থার প্রতি দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংকট তৈরি করেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ গভীর আস্থা রেখে বর্তমান সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, কিন্তু বহির্বিশ্বের যুদ্ধ এবং টার্মিনালের আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের মতো অনিবার্য দুর্ঘটনার কারণে শিডিউল ঠিক রাখতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। তবে এখন সফলভাবে বিকল্প সরবরাহ লাইন থেকে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সরবরাহের নতুন সময়সূচিও কার্যকর করা হয়েছে। নতুন কোনো কারিগরি ত্রুটি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে শিল্প ও আবাসিক উভয় খাতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। নাগরিকদের দৈনন্দিন ভোগান্তি দূর করতে উচ্চমূল্য পরিশোধ করে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, সংকটের গভীরতা উপলব্ধি করে খোদ সরকারপ্রধান নিজে এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন, যার ফলে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে হলেও দ্রুত গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কারিগরি দল যৌথভাবে কাজ করায় দ্রুত সমাধানের পথে হাঁটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার কোনো অবস্থাতেই জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তিতে রাখতে চায় না জানিয়ে তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন