নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৪:৪৮ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক স্বর্গভূমি। তিনি বলেন, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দুটি দেশ ভারত কিংবা মিয়ানমারের দিকে তাকালেই এটি বুঝতে আর বেশিক্ষণ সময় লাগার কথা নয়।শনিবার (০১ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্ঘ্যপূর্ণ বাংলাদেশ' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, এদেশে যে একেবারেই কোনো অঘটন ঘটে না, তা নয়। সংঘাত মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসকল সংঘাত রাজনৈতিক কারণে হয়, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কারণে নয়।তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বড় হয়েছি, স্কুল-কলেজে গেছি, চাকরি করেছি। একসাথে বাজারে যাই, একসাথেই বসবাস করি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা একসাথে যুদ্ধ করেছি। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবেও আমরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, ‘এদেশ আমাদের সবার। আমার যেমন অধিকার রয়েছে, একজন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি বা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর—সবারই সমান অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের অধিকার যেন কেউ ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে, গোষ্ঠীতে-গোষ্ঠীতে কিংবা সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে সংঘাত হলে সেদেশ কখনও উন্নত হতে পারে না। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না এবং পর্যটকদের আগমনও ঘটে না। তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
লালমনিরহাটকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উর্বর ভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এখানে মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় কোনো ধরনের বিবাদ বা বিসংবাদ নেই। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।বিগত ১৭ বছরে লালমনিরহাটে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগাকে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করে উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।
আপনারা এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন, যিনি লালমনিরহাটকে সোনায় মুড়িয়ে দিতে পারেন। আমরা অভিযোগ শুনতে চাই না, কাজ দেখতে চাই।’তিনি মহানবী (সা.)-এর একটি হাদীস উদ্ধৃত করে বলেন, নবীজি (সা.) যুদ্ধের প্রাক্কালে সাহাবীদেরকে নির্বিচারে গাছ কাটতে, নারী ও শিশুদের হত্যা করতে এবং মন্দির বা গীর্জায় অবস্থানরত ধর্মযাজকদের হত্যা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন