সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে স্বপ্রণোদিত কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এই প্রশাসনিক অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা বা এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল আইনি এখতিয়ার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের। জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা বা চিঠি পাওয়ার পরই কেবল পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের ওই সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকা না-থাকা নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে সচিব জানান, তাঁর সদস্যপদের বিষয়ে স্পিকারের কার্যালয় থেকে কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সচিব জানান, বেশ কিছুদিন আগে দলটির নিজস্ব প্যাডে লিখিত একটি চিঠি কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে জানানো হয় যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জি এম নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই দলীয় চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের নিজ উদ্যোগে সংসদ সদস্য পদ খারিজ বা শূন্য করার কোনো সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে সচিব সাফ জানান যে তেমন কোনো সুযোগ নেই।
সচিব আরও ব্যাখ্যা করেন, এই ক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার নেই। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই ধরনের আসন শূন্যতার বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকেই কমিশনকে অবহিত করার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, আর পদ খারিজ সংক্রান্ত আইনি কার্যধারা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আওতাভুক্ত। ফলে স্পিকার কিংবা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পেলে সেই আলোকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আগামী নভেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান যে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এই বিষয়ে কমিশন পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করামাত্র তা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন