মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি দেশবাসীকে কেবল ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে। ওই রাজনীতি দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে এবং গুম খুনের সংস্কৃতির মাধ্যমে জনপদকে শ্মশানে পরিণত করেছে। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা সরকারি স্কুল খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি ঘোষণা করেন যে জামায়াত এখন সেই পুরোনো নোংরা রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে চায়। ডা. শফিক স্পষ্ট করে বলেন যে তাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান বা বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কোনো ভেদাভেদ নেই এবং সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জামায়াত আমির যখন মঞ্চে ওঠেন তখন পুরো মাঠ স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অতীতের শাসকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন তারা দেশপ্রেমের চেয়ে শোষণকেই বড় করে দেখেছিল। 

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কেরানীগঞ্জকে একটি মডেল জনপদে রূপান্তর করা হবে। বিশেষ করে এলাকাটিকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করে আধুনিক নগরায়নের আওতায় আনার ঘোষণা দেন তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের আমূল পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান। নাহিদ ইসলাম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হলে ৫ আগস্টের মতো আবারও রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে রাশেদ প্রধান বলেন জুলাই বিপ্লবের বুলেট যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং এখন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির চূড়ান্ত অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোচ্ছেন বলে সভায় জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন মা-বোনদের ওপর হাত তোলা অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। তিনি সবাইকে নিজের পরিবারের মা-বোনদের সম্মান করার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে তিনি ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন। ঢাকা জেলা আমির মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ও কর্নেল আব্দুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি ও দাঁঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান।