রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে জামায়াতের উদ্বেগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে জামায়াতের উদ্বেগ

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াত

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারের এই পদক্ষেপকে ‍‍`গণবিরোধী‍‍` হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার (১৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিবৃতিতে জামায়াত নেতা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা এবং পেট্রলে ১৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

এই বিশাল অংকের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে চরম দুর্ভোগ ডেকে আনবে। জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের এই বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি গভীর উদ্বেগ জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতের ওপর। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রীর দাম হু হু করে বাড়বে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। এর বাইরেও কৃষি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি। সেচ কার্যক্রম, কৃষি উপকরণের পরিবহন ও সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা ভাবা, কিন্তু তারা উল্টো জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।

জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের এই বর্ধিত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তেলের দাম কমিয়ে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সংশ্লিষ্ট সব মহল মনে করছে, তেলের দামের এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে ওলটপালট করে দেবে।