রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়

কারাগারে বন্দি থাকাকালে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান ও কানাডা প্রবাসী মমিনুল হক মিলন গত রোববার চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই অভিযোগ জমা দেন। 

গতকাল সোমবার গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছেন। তবে যেহেতু এটি বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক একটি স্পর্শকাতর ইস্যু, তাই ট্রাইব্যুনাল প্রথমে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করবে।

 পরিবারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং মতামত জানার পরেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পেছনে একটি গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল। সেই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী জিয়া পরিবারকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার জালে ফাঁসিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া। 

জিয়া পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের চিরতরে পঙ্গু করে ফেলার নীল নকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামানের দেওয়া এক ফরমায়েশি রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সেই সাজা বাড়িয়ে পরে ১০ বছর করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কারাবন্দি হওয়ার সময় বেগম জিয়ার বয়স ছিল ৭৫ বছরের বেশি। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করলেও কিছুদিনের মধ্যেই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, ওই নির্জন কারাগারে খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং বা ধীরগতির বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। 

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি চরম অযত্ন ও অবহেলার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের রিপোর্টের পর খালেদা জিয়ার পরিবার, আইনজীবী ও মেডিকেল বোর্ড বারবার তৎকালীন সরকারের কাছে তার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার আবেদন জানায়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিদেশে চিকিৎসার সব আবেদন নির্দয়ভাবে খারিজ করে দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এই ষড়যন্ত্রের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলকে দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগপত্রে।