মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এখন কৌতুককর‍‍` তাজুল ইসলাম

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এখন কৌতুককর‍‍` তাজুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সংবিধান সংস্কারের কাজ থমকে থাকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি গভর্নেন্স আয়োজিত ‍‍`সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন‍‍` শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। 

তিনি মন্তব্য করেন, নির্দিষ্ট একজনের আপত্তির কারণেই শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয়নি, অথচ অন্য পক্ষগুলো এতে নীরবে সমর্থন জুগিয়ে গেছে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক ধরনের কৌতুক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ ছিল সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের সব মানুষের গভীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সামগ্রিক রূপ, যাতে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ছিল। 

সরকার গঠনের পর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন বা দ্বিকক্ষীয় ব্যবস্থা চালু করা এবং সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার কথা ছিল। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট ও পুলিশ প্রশাসনের মতো মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এর একটি প্রক্রিয়াও বাস্তব রূপ পায়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকারপ্রধান ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের দাবি করলেও কাজে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, সংবিধান প্রশ্নে অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বহুবার বলেছিলেন যে বাহাত্তরের সংবিধান এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া উচিত। অথচ তাঁর সেই স্পষ্ট বক্তব্যের পরও বর্তমান সময়ে দলটির পক্ষ থেকে কীভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের মূল কাঠামোয় থাকার কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।