এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পুনরায় বৈষম্য ও দলীয়করণের নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে পুরোনো ধাঁচের ক্ষমতার রাজনীতি আবার নতুন করে ফিরে আসছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, ফ্যাসিবাদ কিংবা কোনো ধরণের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে দেশের সচেতন জনতা আবারও রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না। জনগণ পুনরায় সংগঠিত হয়ে এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন।
তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগ ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এনসিপির জন্ম হয়েছে এবং এই রাজনৈতিক দল তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন দেখে।নিজের রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরও জানান যে, তারা বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সবার জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চান। একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে এনসিপি তরুণ প্রজন্মের নতুন আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। সারা দেশ থেকে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন মূলত গভীর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গত নির্বাচনটি কোনো সাধারণ ক্ষমতা বদলের নির্বাচন ছিল না। এটি ছিল মূলত দেশ পরিবর্তন ও রাষ্ট্র সংস্কারের নির্বাচন এবং এর সঙ্গে একটি গণভোটও যুক্ত ছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই ঐতিহাসিক গণরায়কে অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার বা লেগেসি থেকে বর্তমান সময়কে বিচ্ছিন্ন করে এটিকে কেবল একটি সাধারণ ক্ষমতা বদলের ঘটনায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি অভিযোগ করেন যে, সংবিধান সংশোধনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো এখন একে একে বাতিল করা হচ্ছে। আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা থেকে সরে গিয়ে সরকার সাধারণ ক্ষমতা রক্ষার গতানুগতিক রাজনীতিতে নিমগ্ন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় অভ্যুত্থানের শক্তিকে রক্ষা করতে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। তরুণ সমাজ এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন