রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি

মহাসমাবেশে মামুনুল হক

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় গণমিছিলসহ তিন মাসব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ঘোষিত এই কর্মসূচির আওতায় মে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে দেশের প্রতিটি জেলায় নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় বিশাল গণমিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই ঘোষণা প্রদান করেন। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং বর্তমান সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন।

সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি নতুন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে। 

যারা দেশ, ইসলাম ও জাতীয় ঐতিহ্যকে মনে প্রাণে ধারণ করেন, তারা কখনোই এই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এই দলটি টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, গণভোটের রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিলে বিএনপি বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পাবে।বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে মামুনুল হক অভিযোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে প্রশাসন। 

এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমবর্ধমান নৈরাজ্য ও সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।মহাসমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মাটিতে কোনো ধরণের আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এখন তারা সেগুলো থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। 

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এই সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে খেলাফত মজলিসের এই মঞ্চ সবসময় আপসহীন থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থ পাচারের মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

 গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেরি হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে নিছক ফাঁকা বুলি হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একযোগে দাবি করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া না হলে রাজপথের আন্দোলন আরও তীব্র হবে। ৫ আগস্টের গণমিছিলকে সফল করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের সমাবেশগুলোতে নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।