রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রবাসীদের সুরক্ষায় মালয়েশিয়ায় কঠোর আইন ও সংস্কার দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম

প্রবাসীদের সুরক্ষায় মালয়েশিয়ায় কঠোর আইন ও সংস্কার দাবি

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং সুরক্ষা নীতিমালায় ব্যাপক সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠন। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেশটিতে জাল কাগজপত্র তৈরি।

কোটার অপব্যবহার এবং ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিতকরণসহ মানবপাচারের সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

নর্থ-সাউথ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড্রিয়ান পেরেইরা মন্তব্য করেছেন যে মানবপাচারের মূলহোতাদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অ্যাড্রিয়ান পেরেইরা পরামর্শ দেন যে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণ দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ পরিচালনা করে থাকে যা বিভিন্ন প্রশাসনিক অসঙ্গতি তৈরি করছে। তার মতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছ সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি যাতে কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু পাচার চক্র এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে না পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত ২০২৫ সালের ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস প্রতিবেদনে মালয়েশিয়া টিয়ার ২ অবস্থান ধরে রাখার প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো সামনে এসেছে।মানবাধিকারকর্মী গ্লোরিন দে সুজা এ বিষয়ে বলেন যে আন্তঃসংস্থার জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে আইনি কাঠামো থাকলেও তার প্রয়োগে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।

তার মতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশে বসবাসরত প্রত্যেক মানুষ তার অবস্থান যাই হোক না কেন যেন পাচার ও শোষণ থেকে সুরক্ষা পায়। গ্লোরিন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ের প্রশংসা করলেও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে অনেক সময় ভুক্তভোগী অভিবাসী শ্রমিকদেরই ইমিগ্রেশন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় অথচ মূল অপরাধীরা দণ্ডহীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায় যা বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।