জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:১২ এএম
বাংলাদেশে কৃষিখাতে আধুনিকায়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও অত্যাধুনিক ‘সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম’। এই পদ্ধতিতে সনাতন সেচ ব্যবস্থার পরিবর্তে পাইপের সঙ্গে যুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে ওপর থেকে বৃষ্টির মতো ফসলি জমিতে সেচ দেওয়া হবে।
অস্ট্রিয়ার কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পানাসি প্রকল্পের প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়াইগ্রামের ভবানীপুর ও ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইক্ষু খামারে এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বড়াইগ্রামের ভবানীপুর খামারে পরীক্ষামূলক সেচ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি খামার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে একসঙ্গে ১২৫ একর জমিতে নিখুঁতভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেরপা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তত্ত্বাবধানে চীন ও ভিয়েতনামের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও তদারকি করেছেন। বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি। চাকার সাহায্যে বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে বৃষ্টির ফোটার মতো পানি দেওয়ায় উঁচু-নিচু জমিতেও সমানভাবে সেচ পৌঁছায়, যা ফসল উৎপাদন ত্বরান্বিত করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানান, গভীর নলকূপের তুলনায় এই পদ্ধতিতে পানির অপচয় অনেক কম এবং খরচও সাশ্রয়ী। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই প্রযুক্তির ফলে তাদের খামারের পতিত জমিগুলোও চাষাবাদের আওতায় আসবে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের কৃষি ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন