রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খুলনার নোনা মাটিতে সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলন

কৃষি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

খুলনার নোনা মাটিতে সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলন

মাঠে ফুটেছে সূর্যমুখী

খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ত পতিত জমির বিস্তীর্ণ অংশ এখন সূর্যমুখী ফুলের সোনা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে সফলভাবে এই তৈলবীজ চাষের ফলে জেলার ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। কম উৎপাদন খরচ, স্বল্প জীবনকাল এবং সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা এখন আবাদি জমির পরিমাণ বাড়াতে উৎসাহিত হচ্ছেন। 

কৃষি বিভাগ মনে করছে, আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের ওপর চাপ কমাতে দেশীয় এই সূর্যমুখী তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের চারটি জেলা যথাক্রমে খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল এবং সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। 

গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেড়েছে ১১১ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে এই অঞ্চলে ২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন সূর্যমুখী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, উৎপাদিত ফসল থেকে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার লিটার উন্নত মানের ভোজ্য তেল পাওয়া সম্ভব হবে, যা এই অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর তেলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।সরেজমিনে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ হলুদ কার্পেটের মতো সূর্যমুখী ফুলের বাগানে ছেয়ে আছে। বাতাসে দোল খাওয়া এই ফুলগুলো কেবল সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, বরং কৃষকের চোখেমুখে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ডুমুরিয়ার কৃষক আব্দুল হক জানান, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় সাত থেকে দশ মণ বীজ পাওয়া যায়। 

প্রতি কেজি বীজ থেকে গড়ে আধা লিটারের বেশি তেল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমান বাজারে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম অন্তত ২৫০ টাকা, যেখানে এক বিঘা জমিতে চাষের খরচ মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা। এছাড়া বীজের খোসা গবাদি পশুর পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় কৃষকরা বাড়তি লাভ পাচ্ছেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিরা জানান, নোনা মাটিতে অন্যান্য ফসল ফলানো যেখানে চ্যালেঞ্জিং, সেখানে সূর্যমুখী বেশ ভালো ফলন দেয়। এতে সেচ ও বাড়তি যত্নের প্রয়োজন তুলনামূলক কম। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাষাবাদ আরও সম্প্রসারণের জন্য সরকারি পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে বিশেষ প্রণোদনা সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার কেজি সার এবং ১০ হাজার কেজি বারি-৩ জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে কৃষকদের নিয়ে প্রদর্শনী ক্ষেত তৈরি করা হয়েছে যাতে অন্যরা উৎসাহিত হয়। নোনা মাটির এই সূর্যমুখী চাষ এখন কেবল ফুল নয় বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতির নতুন শক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।