মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ভোরের সূর্য উঠতেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের মাঠজুড়ে এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা হয়। দিগন্তজোড়া হলুদ গালিচার মতো ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা এই সোনালি ফুল দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সোনার সমুদ্র। প্রতিটি ফুল যেন কৃষকের পরিশ্রমের সার্থকতা আর সোনালি স্বপ্নের কথা বলছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত) প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খানসামা উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের হাইসান-৩৬ সূর্যমুখীর প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এই জাতটি স্বল্প সময়ে ভালো ফলন দেয় এবং তেলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা এমনই একটি প্রদর্শনী প্লটে সূর্যমুখী চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের কারিগরি ও সার-বীজ সহায়তায় তিনি এই চাষ শুরু করেন। শুরুতে কিছুটা দোটানায় থাকলেও এখন মাঠভরা ফুল দেখে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তার মতে, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় এতে খরচ কম কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আগামীতে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর খানসামার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১.২৫ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা থেকে মোট ৫ মেট্রিক টন সূর্যমুখী বীজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি স্থানীয় তেলের বাজারে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।
এই সোনালি সৌন্দর্য কেবল কৃষকের আয়ের উৎস নয়, বরং বিনোদনের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ভিড় করছেন। দর্শনার্থী জহুরা বেগম ও স্বনালী আক্তার জানান, সূর্যমুখীর এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মনকে প্রশান্তি দেয়। অনেকে পরিবার নিয়ে আসছেন ছবি তুলতে ও সময় কাটাতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে সূর্যমুখী অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি ফসল। তিনি বলেন, “সরকার কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করছে যাতে তারা নিরাপদ ও লাভজনকভাবে এই ফসল চাষ করতে পারেন। নিরাপদ ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” খানসামার মাঠজুড়ে সূর্যমুখীর এই হাসি যেন কৃষকের ভাগ্য বদলেরই নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন