জুলাই ২৭, ২০২৬, ০১:০২ পিএম
শারীরিক অসুস্থতা ও অনিশ্চিত জীবনকে পেছনে ফেলে কৃষি ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক এক এনজিও কর্মী। অনিয়মিত জীবনযাপন ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় পড়েছিলেন তিনি। তবে চিকিৎসকের আশঙ্কাজনক ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে শারীরিক পরিশ্রম ও আধুনিক সবজি চাষের নার্সারি গড়ে তুলে তিনি এখন সুস্থ ও সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী।
কৃষিতে পরিশ্রমের মাধ্যমেই তিনি নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছেন।পূর্বে অল্প বেতনের এনজিও চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে সবজির চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। শুরুতে বীজ কিনে চারা তৈরি করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা ও নিম্নমানের বীজের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এই উদ্যোগী ব্যক্তি। পরবর্তীতে স্থানীয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তায় সরাসরি বীজ সরবরাহকারী বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর যোগাযোগ গড়ে ওঠে। মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহারের ফলে বীজের অংকুরোদ্গমের হার শতভাগে পৌঁছে যায়।
কোকোবিট ব্যবহারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে তিনি সরকারি কৃষি উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নিজে কোকোবিট প্রস্তুত করে মানসম্মত সবজির চারা তৈরি শুরু করায় তাঁর উৎপাদিত চারা দ্রুত কৃষক ও স্থানীয় পাইকারি বাজারে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে তাঁর নার্সারিতে কয়েকজন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতন প্রদান করা হয়। যাবতীয় উৎপাদন ও পরিচালনা খরচ বাদে প্রতি মাসে এই খাত থেকে আধা লাখ টাকার বেশি নিট মুনাফা অর্জিত হচ্ছে।শারীরিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এই প্রযুক্তি নির্ভর নার্সারি তাঁর পরিবারে এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও সম্মান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন