সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
চলতি মৌসুমে নড়াইলে আউশ ধানের বাম্পার ফলনের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেলায় এবার মোট ৯ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ সম্পন্ন করেছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। আবাদকৃত এই জমি থেকে ২৩ হাজার ৫৯৭ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে জেলার তিনটি উপজেলাতেই মাঠ থেকে পুরোদমে আউশ ধান কাটার উৎসব চলছে। কৃষকেরা এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সময়মতো বিনামূল্যে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি প্রণোদনা দেওয়ায় কৃষকেরা প্রতিবছর আউশ আবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই আবাদ হওয়া মোট জমির ৮১ শতাংশ আউশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। ধান সম্পূর্ণ কেটে নিরাপদে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
জেলাভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নড়াইল সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে আউশের চাষাবাদ হয়েছে। অন্যদিকে কালিয়া উপজেলায় আউশের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া লোহাগড়া উপজেলায় ১ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে এই ধানের চাষ করেছেন কৃষকেরা। উপপরিচালকের কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬-২৭ খরিপ মৌসুমে জেলায় উচ্চফলনশীল জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আউশ ধানের চাষ হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে উফশী ব্রি ধান-৪৮, ব্রি ধান-৫৫, ব্রি ধান-৮২ ও ব্রি ধান-৯৮। হাইব্রিড জাতের মধ্যে কৃষকেরা হীরা, এগ্রো-১২ ও ব্রি-৭ আবাদ করেছেন। স্থানীয় জাতের মধ্যে চাষ হয়েছে রাতইল, ভোজন, পরাঙ্গীর ও নড়ই জাতের ধান। কৃষি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, আউশের চালের ভাত খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এই জেলার মাটি আউশ ধান চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। স্থানীয় বাজারে এই চালের ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকেরা প্রতিবছর বিপুল উৎসাহ নিয়ে আউশ আবাদে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন