জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি গ্রামে চলতি মৌসুমে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করে ব্যবসায়িক সফলতা পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রযুক্তি নির্ভর এ পদ্ধতিতে রোগবালাই দমন ও পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় এলাকার চাষিদের মধ্যে করলা খেতের পরিধি বিস্তারে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উৎপাদিত সবজি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।আধুনিক প্রযুক্তির ফলে কম সেচ ও সেবায় বেশি লাভ মিলছে।উৎপাদন কাজে যুক্ত কৃষকেরা জানান, জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করে মালচিং করায় অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছা জন্মানোর সুযোগ থাকে না এবং মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘসময় বজায় থাকে।
এতে করে জমি চাষ, ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগ ও সেচের পানি ব্যবহারের খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। চারা রোপণের মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে খেত থেকে সতেজ করলা তোলা সম্ভব হচ্ছে, যা বাজারে সবজি হিসেবে বাড়তি দাম পাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে শতাংশ প্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচে কয়েক গুণ বেশি মূল্যের ফসল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আটি গ্রাম সহ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের করলা চাষ সম্পন্ন হয়েছে। খেত পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার প্রয়োগ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়মিত পরমর্শ প্রদান করছেন।
কম খরচে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় বাজারে এ বিষমুক্ত করলার বিশেষ বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই লাভজনক কৃষি পদ্ধতি দ্রুত পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে বৈপ্লবিক উন্নতি ঘটবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন