আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় কাঠলিচু বা লংগান চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন মাওলানা মনিরুজ্জামান রিফাত। উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের জোতকৃষ্ণা গ্রামে নিজের দুই একর জমিতে এই ফলের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলেছেন প্রবাসফেরত এই উদ্যোক্তা। দেশে নতুন ও উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে কাঠলিচুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় তার এই উদ্যোগে এখন চারদিকে সাড়া পড়েছে।চলতি মৌসুমে তিনি এই বাগান থেকে অন্তত দশ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন।
দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিভাগে কর্মরত থাকার সময় প্রথম কাঠলিচুর সঙ্গে পরিচিত হন মনিরুজ্জামান। দেশে ফিরে ২০২২ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দামে ৫০টি চারা কিনে তার মেসার্স প্রবাস বন্ধু পোলট্রি অ্যান্ড চিকস নামের খামারের চারপাশে রোপণ করেন। পরবর্তীতে আরও পঁচাত্তরটি চারা সংগ্রহ করে বাগানের পরিধি বাড়ান। চার থেকে পাঁচ বছরের পরিচর্যায় ভিয়েতনামের পিংপং ও পিংক জাতের গাছগুলোতে এবার প্রচুর ফলন এসেছে এবং উৎপাদিত ফল মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি কাঠলিচু ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাগান মালিক মনিরুজ্জামান জানান, গত বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ফল বিক্রি হলেও এবার তা দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আকারভেদে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি চারা বিক্রি হচ্ছে এবং বাগানের প্রায় এক হাজার চারা বিক্রি করে আরও দশ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলের চাহিদা এত বেশি যে কৃষকদের সরবরাহ করে কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানিয়েছেন, উপজেলায় এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কাঠলিচু বাগান। লংগান, লিচু ও রামবুটান একই উদ্ভিদ পরিবারের হলেও কাঠলিচুতে রোগবালাই কম থাকায় নামমাত্র কীটনাশক ব্যবহার করে নিরাপদভাবে ফলন পাওয়া সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন